কিভাবে যাবেন?

ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে গুলিস্তান, শাহবাগ বা কার্জন হল এলাকায় এসে সেখান থেকে রিকশা, সিএনজি বা ট্যাক্সিক্যাবের মাধ্যমে সরাসরি লালবাগ কেল্লায় পৌঁছানো যায়।


লালবাগ কেল্লার পরিচিতি

লালবাগ কেল্লা বাংলাদেশের একমাত্র মুঘল স্থাপত্য নিদর্শন, যেখানে কষ্টি পাথর, মার্বেল পাথর এবং রঙিন টাইলসের সমন্বয়ে নির্মিত হয়েছে। এটি ঢাকার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান, যা প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে।


লালবাগ কেল্লার নামকরণ

প্রথমদিকে এর নাম ছিল "কেল্লা আওরঙ্গবাদ", যা মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র সুবেদার আজম শাহের নামে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে এর অবস্থানগত কারণে নাম পরিবর্তিত হয়ে "লালবাগ কেল্লা" রাখা হয়।


লালবাগ কেল্লার ইতিহাস

  • নির্মাণ শুরু: ১৬৭৮ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র আজম শাহ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
  • কাজ বন্ধ হয়ে যায়: মাত্র এক বছরের মধ্যে মারাঠা বিদ্রোহ দমনের জন্য আজম শাহ দিল্লি চলে গেলে কেল্লার নির্মাণ কাজ থেমে যায়।
  • নির্মাণ পুনরায় শুরু: ১৬৮০ সালে নবাব শায়েস্তা খাঁ আবার কাজ শুরু করেন।
  • নির্মাণ অসম্পূর্ণ: শায়েস্তা খাঁর কন্যা পরীবিবির আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি কেল্লার কাজ বন্ধ করে দেন, এবং এটি অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।

লালবাগ কেল্লার প্রধান আকর্ষণসমূহ

কেল্লার অভ্যন্তরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে—

১. পরীবিবির সমাধি

পরীবিবি ছিলেন নবাব শায়েস্তা খাঁর কন্যা। তার আকস্মিক মৃত্যুর পর তাকে কেল্লার ভেতরেই সমাহিত করা হয়। এই সমাধি মার্বেল ও কষ্টি পাথরের সমন্বয়ে নির্মিত এবং একসময় এটি স্বর্ণখচিত ছিল।

২. হাম্মাম খানা ও দরবার হল

এটি ছিল নবাবের ব্যক্তিগত স্নানাগার ও বিচারালয়। হাম্মাম খানায় তৎকালীন মুঘল প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি পানির গরম করার ব্যবস্থা ছিল।

৩. শাহী মসজিদ

তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি কেল্লার অন্যতম দর্শনীয় স্থান, যা আজও নামাজ আদায়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।


অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

  • কেল্লার ভেতরের বিশাল উদ্যান
  • পুরাতন জাদুঘর (যেখানে মুঘল আমলের অস্ত্র, পোশাক, মুদ্রা, চিত্রকলা সংরক্ষিত রয়েছে)
  • ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গপথ (বর্তমানে বন্ধ)
  • ঐতিহ্যবাহী ফোয়ারা

প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচি

✅ টিকেট মূল্য:

  • বাংলাদেশি দর্শনার্থী: ১০ টাকা
  • বিদেশি পর্যটক: ১০০ টাকা
  • ৫ বছরের নিচে শিশুর জন্য ফ্রি

✅ খোলার সময়:

  • গ্রীষ্মকাল: সকাল ১০:০০ – সন্ধ্যা ৬:০০ (দুপুর ১:০০ – ১:৩০ পর্যন্ত বন্ধ)
  • শীতকাল: সকাল ৯:০০ – বিকেল ৫:০০ (দুপুর ১:০০ – ১:৩০ পর্যন্ত বন্ধ)
  • শুক্রবার: জুমার নামাজের জন্য ১২:৩০ – ৩:০০ পর্যন্ত বন্ধ
  • রবিবার ও সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ

ভ্রমণের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

  1. অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার না খেয়ে ভ্রমণে বের হওয়া উত্তম।
  2. সাথে পর্যাপ্ত পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখুন।
  3. নগদ টাকার পরিবর্তে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ড পেমেন্ট ব্যবহার করুন।
  4. ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক সম্পূর্ণ চার্জ দিয়ে রাখুন।
  5. গুগল ম্যাপে গন্তব্য চেক করুন এবং নিরাপত্তার জন্য পরিচিতদের জানিয়ে রাখুন।
  6. ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ক্যামেরা বা স্মার্টফোন সাথে রাখুন।

উপসংহার

লালবাগ কেল্লা শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ মুঘল ঐতিহ্যের এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। ঢাকা ভ্রমণে গেলে এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি স্থান।