Interesting Places

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা – প্রাণী বৈচিত্র্য ও দর্শনার্থীদের গাইড

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা

বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানা (পূর্বনাম: ঢাকা চিড়িয়াখানা; মিরপুর চিড়িয়াখানা নামে অধিক পরিচিত) ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত একটি চিড়িয়াখানা। এটি বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৫০ সালে হাইকোর্ট চত্বরে জীবজন্তুর প্রদর্শনশালা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় চিড়িয়াখানাটি। পরবর্তীকালে ১৯৭৪ সালে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয় এটি। চিড়িয়াখানাটি উদ্বোধন ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন। বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ দর্শনার্থী ঢাকা চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে থাকেন। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নাম পরিবর্তন করে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা নামকরণ করা হয়। চিড়িয়াখানার বার্ষিক বাজেট ৩৭.৫ মিলিয়ন টাকা, যার মধ্যে ২৫ মিলিয়ন টাকা পশুদের খাওয়ানোর জন্য ব্যয় করা হয়।

ইতিহাস

১৯৫০ সালের ২৬ ডিসেম্বর, কৃষি, সমবায় ও সাহায্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় একটি চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। তাই চিড়িয়াখানাটি ঢাকা হাইকোর্টের কাছে বেশ কয়েকটি দাগযুক্ত হরিণ, বানর এবং হাতি নিয়ে সে সময় শুরু হয়েছিল। পরে চিড়িয়াখানাটি আরও পশু নিয়ে বর্তমান ঈদগাহ ময়দানে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৬১ সালে চিড়িয়াখানার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য একটি বোর্ড তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে, দেশি-বিদেশি প্রাণী সংগ্রহের পর, চিড়িয়াখানাটি ২৩ জুন ১৯৭৪ সালে বর্তমান অবস্থানে উদ্বোধন করা হয়।

আয়তন

ঢাকা চিড়িয়াখানার আয়তন প্রায় ৭৫ হেক্টর। চিড়িয়াখানার চত্বরে ১৩ হেক্টরের দুটি দৃষ্টিনন্দন প্রশস্ত লেক আছে।

প্রাণী বৈচিত্র্য

চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৩৪ প্রজাতির ২,১৫০টি প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে:

  • ৫৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী: হাতি, চিতা, গণ্ডার, জেব্রা, ওয়াটারবাক, ভোঁদড়, হায়েনা, হরিণ, জিরাফ, ইম্পালা, কালো ভাল্লুক, টাপির, জলহস্তী, সিংহ, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, শিম্পাঞ্জী, বেবুন এবং বেঙ্গল টাইগার।
  • ৯১ প্রজাতির ১৫০০+ পাখি: ময়ূর, রিয়া, আফ্রিকান গ্রে প্যারোট, কেসোয়ারি, উটপাখি, এমু, টিলস, ফিঞ্চ, ছাতারে, প্যাঁচা, শকুন এবং ঈগল। চিড়িয়াখানার দুটি হ্রদ শীতকালে পরিযায়ী পাখিদের আকর্ষণ করে।
  • ১৩ প্রজাতির সরীসৃপ ও ২৮ প্রজাতির মাছ: দর্শনার্থীরা সাপ, কুমিরসহ বিভিন্ন সরীসৃপ এবং নানা প্রজাতির মাছ দেখতে পারেন।

আকর্ষণীয় বৈচিত্র্য

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার মূল আকর্ষণ হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এছাড়া চিত্রা হরিণ, বানর, নীলগাই, সিংহ, জলহস্তি, গন্ডার, ভালুক, কুমির, জেব্রা, ফ্লেমিংগো, পানকৌড়ি এবং মাছরাঙ্গা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রাণী জাদুঘরে প্রায় ২৪০ প্রজাতির স্টাফিং করা পশুপাখি প্রদর্শিত হয়।

খোলা-বন্ধের সময়সূচি

  • সাপ্তাহিক বন্ধ: প্রতি রবিবার (যদি সরকারি ছুটি হয়, তাহলে খোলা থাকবে)।
  • গ্রীষ্মকাল (এপ্রিল-অক্টোবর): সকাল ৯টা – বিকেল ৬টা।
  • শীতকাল (নভেম্বর-মার্চ): সকাল ৮টা – বিকেল ৫টা।

প্রবেশমূল্য

  • মেইন গেট: দুই বছরের বেশি বয়সীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা।
  • জাদুঘর: প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা।
  • শিক্ষার্থীদের জন্য: হাফ টিকিট (আইডি কার্ড আবশ্যক)।
  • দুই বছরের কম বয়সীদের জন্য: বিনামূল্যে প্রবেশ।

পিকনিক স্পট ভাড়া

  • উৎসব স্পট: ১০,০০০ টাকা।
  • নিঝুম স্পট: ৬,০০০ টাকা।

পার্কিং ফি

  • বাস, ট্রাক, মিনিবাস: ৪০ টাকা।
  • মাইক্রোবাস, ট্যাক্সি, জীপ, প্রাইভেটকার, পিকআপ: ২০ টাকা।
  • সিএনজি, টেম্পু, মোটরসাইকেল: ১০ টাকা।
  • রিকশা, বাইসাইকেল: ২ টাকা।

কিভাবে যাবেন?

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে চিড়িয়াখানাগামী বাস চলাচল করে। এছাড়া, নিজস্ব পরিবহণ, ট্যাক্সি, সিএনজি বা প্রাইভেটকারেও সহজে পৌঁছানো সম্ভব।

কোথায় খাবেন?

চিড়িয়াখানার সামনে বেশ কিছু খাবারের দোকান রয়েছে। তবে খাবার অর্ডারের আগে মূল্য নিশ্চিত করে নিন।

যোগাযোগ

Bangladesh National Zoo
চিড়িয়াখানা রোড, মিরপুর, ঢাকা – ১২১৬
ফোন: +88 02 58053030
ওয়েবসাইট: www.bnzoo.org

Related Articles

১২ Comments

  1. Официальный Telegram канал 1win Casinо. Казинo и ставки от 1вин. Фриспины, актуальное зеркало официального сайта 1 win. Регистрируйся в ван вин, соверши вход в один вин, получай бонус используя промокод и начните играть на реальные деньги.
    https://t.me/s/Official_1win_kanal/201

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button