চিম্বুক পাহাড় – বান্দরবানের মেঘ ছোঁয়া এক স্বপ্নলোক
চিম্বুক পাহাড়, বান্দরবান জেলা শহর থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৫০০ ফুট। চিম্বুক যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ী দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম। বিশেষ করে, সাঙ্গু নদী ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় ও নান্দনিক করে তোলে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে যেতে যেতে মনে হবে, আপনি যেন চাঁদের বুকে ভ্রমণ করছেন।
২৫০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে চিম্বুকের অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পাহাড়ের উপর থেকে নিচে তাকালে মনে হবে মেঘগুলো যেন বয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাকে এখান থেকে দেখা যায়। তখন, পাহাড়ের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মেঘ দেখে মনে হবে চিম্বুকই যেন মেঘের রাজ্য।
খাবার ও থাকার ব্যবস্থা
চিম্বুক, থানছি সড়কের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে হোটেল বা রেস্তোরাঁ নেই। তবে, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি রেস্টহাউস রয়েছে, যেখানে অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপন করা যায়। এছাড়া, সেনাবাহিনীর একটি ক্যান্টিনে সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার পাওয়া যায়।
বান্দরবান থেকে চিম্বুক যাওয়ার পথে মিলনছড়ি ও শাকুরা নামক দুটি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে খাবার পাওয়া যায়। তবে, ভ্রমণের সুবিধার্থে বান্দরবান থেকেই হালকা খাবার, পানীয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যাওয়া উত্তম।
যেভাবে যাবেন
প্রথমে আপনাকে বান্দরবান যেতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির বাস ছেড়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে শ্যামলি, ইউনিক, হানিফ, এস আলম ও ডলফিন। সাধারণত, রাত ১০টা ও সাড়ে ১১টায় সায়েদাবাদ, কলাবাগান বা ফকিরাপুল থেকে এসব বাস ছেড়ে যায়। এছাড়া, চট্টগ্রামের বদ্দারহাট থেকে পূর্বানী ও পূবালী পরিবহনের বাসেও বান্দরবান যাওয়া যায়।
বান্দরবান শহরের রুমা বাস স্টেশন থেকে চাঁদের গাড়ি, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার, জিপ বা পাজেরো ভাড়া করে চিম্বুক যেতে হবে। থানছি পথে বিশেষ ধরনের বাসও চলাচল করে, যা দুর্গম পাহাড়ী পথে যাতায়াতের উপযোগী। তবে, রাস্তা দুর্গম হওয়ায় বাসে যাতায়ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিম্বুক-থানছি পথে বিকেল ৪টার পরে কোনো গাড়ি চলাচল করে না। তাই পর্যটকদের অবশ্যই বিকেল ৪টার মধ্যে ফিরে আসা উচিত।
কোথায় থাকবেন
বান্দরবানে বিভিন্ন রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল ও রেস্টহাউস রয়েছে, যেখানে ৬০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে রাত্রিযাপন করা যায়।
- হলিডে ইন রিসোর্ট: মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সের অপর পাশে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এখানে ছোট ছোট কটেজ রয়েছে। ফোন: 01553-325347.
- হিলসাইড রিসোর্ট: বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের ৫ কিলোমিটার এলাকায়, মিলনছড়িতে অবস্থিত। এখানে উন্নত মানের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। মোবাইল: 01777-739289.
- হোটেল ফোর স্টার: বান্দরবান শহরে অবস্থিত। এখানে এসি ও নন-এসি কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায়।
- হোটেল থ্রি স্টার: বান্দরবান বাসস্টপের পাশে অবস্থিত। এটি আট থেকে ১০ জনের থাকার উপযোগী। নন-এসি ফ্ল্যাট ২৫০০ টাকা, এসি ফ্ল্যাট ৩০০০ টাকা। বুকিং ফোন: 01553-421089, 01813-278731.
- হোটেল রিভার ভিউ: সাঙ্গু নদীর পাশের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। এখানে নিজস্ব রেস্টুরেন্টও রয়েছে।
- নীলাচল স্কেপ রিসোর্ট: এখানে তিনটি কটেজে ছয়টি কক্ষ রয়েছে, প্রতিটির ভাড়া ৩০০০ টাকা। রিসোর্টের অতিথিদের জন্য মানসম্পন্ন খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। যোগাযোগ: 01777-765789.
উপসংহার
চিম্বুক পাহাড়ের সৌন্দর্য ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দেয়। যদি আপনি ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন, তবে এটি অবশ্যই আপনার তালিকায় রাখা উচিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগেভাগে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে ভ্রমণ হবে আরও উপভোগ্য।
তথ্য ও ছবি: (ইন্টারনেট)



