Historical PlaceInteresting PlacesRomantic Place

Cox’s bazar: বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত, যা বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুময় সৈকত হিসেবে পরিচিত। সৈকতটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার (৭৫ মাইল)ওয়ার্ল্ডঅ্যাটলাস ডট কম ও এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনুসারে, এটি বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, ব্রাজিলের প্রাইয়া দো কাসিনো এবং অস্ট্রেলিয়ার নাইনটি মাইল সৈকতের পরে অবস্থান করছে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভৌগোলিকভাবে একটি চওড়া ও প্রশস্ত বেলাভূমি, যার প্রস্থ জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। গড়ে ভরা জোয়ারের সময় সৈকতটি প্রায় ২০০ মিটার (৬৬০ ফুট) প্রশস্ত থাকে, তবে নিম্ন জোয়ারের সময় এটি ৪০০ মিটার (১,৩০০ ফুট) পর্যন্ত প্রশস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ভাটার সময়ে কিছু স্থানে চোরাবালি জেগে ওঠে, যা পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। অতএব, সৈকতে ভ্রমণের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ।


পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুবিধা – সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে অত্যাধুনিক হোটেল, মোটেল, কটেজ, বার্মিজ মার্কেট ও ঝিনুক-প্রবাল সমৃদ্ধ বিপণি বিতান রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আনন্দ যোগ করে।

অবিচ্ছিন্ন বালুময় সৈকত – সমুদ্র সৈকতের পুরোটাই বালুকাময়, কোথাও কাদার অস্তিত্ব নেই।
নৈসর্গিক সৌন্দর্য – ঋতুভেদে এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে এর রূপ পরিবর্তিত হয়। প্রত্যুষে একরকম, মধ্যাহ্নে অন্যরকম এবং গোধূলিলগ্নে এটি হয়ে ওঠে মোহনীয়।

পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় দিক

সমুদ্রের গর্জন ও বিশাল বেলাভূমি – সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন ও নরম সোনালি বালির স্পর্শ পর্যটকদের এক অনন্য অনুভূতি দেয়।
অপরূপ সূর্যাস্ত – সূর্যাস্তের সময় কক্সবাজার সৈকতের দৃশ্য যেন এক স্বপ্নপুরীর মতো লাগে।
প্রবাল দ্বীপ ও সামুদ্রিক প্রাণী – সৈকতের আশেপাশে রয়েছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, যেখানে দেখা মেলে নানা ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী ও বৈচিত্র্যময় প্রবাল প্রাচীর।

পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারের প্রাণচাঞ্চল্য

কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয়। শীতকালই মূলত পর্যটনের মৌসুম, তখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। সৈকতের পাশের বার্মিজ মার্কেট, ঝিনুক ও প্রবালের দোকান, স্থানীয় খাবারের স্টলআধুনিক রিসোর্টগুলো শহরকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। যারা সমুদ্র ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, নিরিবিলি পরিবেশ ও আধুনিক পর্যটন সুবিধার সমন্বয়ে কক্সবাজার বিশ্বের অন্যতম সেরা সমুদ্র সৈকত হিসেবে বিবেচিত হয়।

কক্সবাজারের ইতিহাস

কক্সবাজারের ইতিহাস শত শত বছর পুরোনো। একসময় এটি “পালংকি” নামে পরিচিত ছিল। ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স শরণার্থীদের পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে “কক্স সাহেবের বাজার” নামে একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে কক্সবাজার নামে পরিচিত।

অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থা

  • ঢাকা থেকে কক্সবাজার: ৪১৪ কি.মি.
  • চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার: ১৫২ কি.মি.
  • যাতায়াতের মাধ্যম: সড়ক, আকাশপথ, এবং রেলপথ।

পর্যটন আকর্ষণ

কক্সবাজার শুধু সমুদ্র সৈকতের জন্যই নয়, আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোর জন্যও বিখ্যাত।

সমুদ্র সৈকত: বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সৈকত, যেখানে রয়েছে ইনানী, হিমছড়ি, কলাতলী ও সুগন্ধা বিচ।
মেরিন ড্রাইভ: কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিমি দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ, যা পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।
রামু বৌদ্ধবিহার: ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা, যেখানে রয়েছে সুবিশাল বুদ্ধমূর্তি।
বার্মিজ মার্কেট: মিয়ানমার থেকে আসা বিভিন্ন পণ্য ও হস্তশিল্পের বাজার।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা নৌপথে কক্সবাজার থেকে যাওয়া যায়।

মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপ: কক্সবাজারের নিকটবর্তী দুটি নয়নাভিরাম দ্বীপ।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক: নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য।

টেকনাফ সমুদ্র সৈকত

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের সৈকত টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, যা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত। এই সৈকত অন্যান্য সাধারণ সমুদ্রসৈকতের তুলনায় ভিন্নতর, কারণ এটি ম্যানগ্রোভ বনের সীমানায়, যেখানে সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য আর নীল জলরাশি মিলেমিশে এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করেছে।

টেকনাফ সৈকত মূলত কয়েকটি অংশে বিভক্ত, যেগুলো ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়—

শ্যামলাপুর সৈকত (বাহারছড়া সৈকত) – সবুজ পাহাড় ও নির্জন পরিবেশের জন্য বিখ্যাত।
শিলাখালী সৈকত – প্রশস্ত বেলাভূমি এবং উঁচু ঢেউয়ের জন্য পরিচিত।
হাজামপাড়া সৈকত – তুলনামূলক কম পরিচিত হলেও এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর।

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য টেকনাফ সৈকত নিঃসন্দেহে এক স্বর্গীয় গন্তব্য যেখানে সমুদ্র, ম্যানগ্রোভ বন ও পাহাড়ের সম্মিলিত সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে যেকোনো পর্যটককে।

পর্যটন সুবিধা

পর্যটকদের সুবিধার জন্য রয়েছে পাঁচ তারকা হোটেল, রিসোর্ট, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, নাইট বিচ কনসার্ট, বিচ বাইকিং, প্যারাসেলিং, এবং সমুদ্রভ্রমণের জন্য জাহাজ ভ্রমণ

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি

এখানে রয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস, যা শহরের সংস্কৃতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। এখানে বৌদ্ধ মন্দির, রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প এবং বিরল খাবারের স্বাদ নিতে পারেন

নতুন ভ্রমণ পরিকল্পনা ও আকর্ষণীয় পর্যটন গাইড পেতে নজর রাখুন Visit Plan-এ!

Related Articles

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button