Nilgiris and Nilachal, Bandarban || Nilgiri Guide
নীলগিরি: স্বর্গীয় সৌন্দর্যের স্পর্শ
বাংলাদেশের অন্যতম উঁচু পাহাড়চূড়াগুলোর মধ্যে নীলগিরি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বান্দরবান জেলা শহর থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্রটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে মেঘের ভেলা হাতছোঁয়া দূরত্বে ঘুরে বেড়ায়, যা পর্যটকদের কাছে নীলগিরির প্রধান আকর্ষণ। অনেকেই একে “বাংলাদেশের দার্জিলিং” বলে অভিহিত করেন।
কীভাবে যাবেন?
বান্দরবান পর্যন্ত যাত্রা:
- ঢাকা থেকে বান্দরবানগামী এস. আলম, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন, ইউনিক, হানিফ, শ্যামলি, ডলফিন পরিবহনের নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৫০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৯৫০-১৫০০ টাকা।
- চট্টগ্রাম থেকে বদ্দারহাট ও ধামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ২২০-৩০০ টাকায় সরাসরি বান্দরবান যাওয়া যায়।
বান্দরবান থেকে নীলগিরি:
- চান্দের গাড়ি/জিপ/সিএনজি বা লোকাল বাসে যাওয়া যায়।
- চান্দের গাড়ির ভাড়া ৩০০০-৫০০০ টাকা (রিজার্ভ করলে বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়)।
- লোকাল বাসে গেলে ভাড়া ১২০ টাকা।
- নীলগিরি যেতে ২.৫-৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
- সন্ধ্যা ৫টার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে নীলগিরির উদ্দেশ্যে গাড়ি ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয় না।
- প্রবেশ টিকিট ৫০ টাকা, গাড়ির জন্য পার্কিং ফি ৩০০ টাকা।
নীলগিরির বিশেষ আকর্ষণ
- মেঘের রাজত্ব: বছরের বেশিরভাগ সময়ই নীলগিরিতে মেঘের ভেলা দেখা যায়।
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: পাহাড়ের গায়ে রক্তিম সূর্যের আলো পর্যটকদের মোহিত করে।
- শীতকালে কুয়াশাচ্ছন্ন সৌন্দর্য: শীতে পুরো নীলগিরি কুয়াশার চাদরে মোড়ানো থাকে।
- বর্ষায় মেঘের নাচন: বর্ষাকালে চারপাশে মেঘের লুকোচুরি পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।
কোথায় থাকবেন?
- নীলগিরি রিসোর্ট (সেনাবাহিনী পরিচালিত):
- রুম ভাড়া: ৪,০০০-১০,০০০ টাকা।
- আগেভাগে বুকিং দিতে হয়।
- বান্দরবানের হোটেল ও রিসোর্ট:
- হোটেল হিল ভিউ: ৮০০-২৫০০ টাকা।
- হোটেল হিলটন: ৮০০-৩০০০ টাকা।
- রিভার ভিউ হোটেল: ৬০০-২০০০ টাকা।
- পর্যটন মোটেল (মেঘলা এলাকায়): ১২০০-২৫০০ টাকা।
- সিজন অনুযায়ী ভাড়া কমবেশি হতে পারে, তাই আগেভাগে বুকিং করাই ভালো।
নীলাচল: পাহাড়ের কোল ঘেঁষে স্বপ্নময় এক জায়গা
বান্দরবানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল। শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থানটি ২০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছে। এখান থেকে পুরো বান্দরবান শহর, পাহাড়ের আঁকা-বাঁকা রাস্তা এবং দূরবর্তী নদীগুলোর সৌন্দর্য এক নজরে উপভোগ করা যায়।
কীভাবে যাবেন?
- বান্দরবান শহর থেকে চান্দের গাড়ি/জিপ/সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে সহজেই নীলাচলে পৌঁছানো যায়।
- গাড়িতে মাত্র ৪৫ মিনিট সময় লাগে।
- প্রবেশ টিকিট: জনপ্রতি ৫০ টাকা।
নীলাচলের আকর্ষণ
- সকালবেলা মেঘের ভেলা
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
- শরৎ, হেমন্ত ও বর্ষাকালে মেঘের সমুদ্র
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা পর্যবেক্ষণ
কোথায় থাকবেন?
- নীলাচল স্কেপ রিসোর্ট (জেলা পরিষদ পরিচালিত)
- কটেজ ভাড়া: ৩০০০ টাকা।
- অগ্রিম বুকিং দেওয়া উত্তম।
ভ্রমণের সেরা সময়
নীলগিরি ও নীলাচল সারা বছরই সুন্দর, তবে বিশেষ কিছু ঋতুতে আলাদা সৌন্দর্য ফুটে ওঠে:
- শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি): কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ, ঠান্ডা আবহাওয়া।
- বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর): মেঘের সমুদ্র, পাহাড়ের সবুজ দৃশ্য।
- শরৎ-হেমন্ত (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর): পরিষ্কার নীল আকাশ, মেঘের খেলা।
সুতরাং, ভ্রমণের সময় নির্ধারণ আপনার পছন্দ অনুযায়ী করতে পারেন। তবে, বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
সাবধানতা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা
- সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে পর্যটকদের নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হয়।
- সন্ধ্যা ৫টার পর নীলগিরির উদ্দেশ্যে গাড়ি ছাড়ার অনুমতি নেই।
- অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা থাকে, তাই আবহাওয়া দেখে পরিকল্পনা করুন।
- স্থানীয় সংস্কৃতি ও নিয়মকানুন মেনে চলুন।
আপনার ভ্রমণ হোক সুন্দর ও নিরাপদ!



