Saint Martin দ্বীপ: ভ্রমণের একটি দুর্দান্ত গন্তব্য
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, কক্সবাজার
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: ভ্রমণের একটি দুর্দান্ত গন্তব্য
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হতে পারে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনার একটি অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এটি Cox’s Bazar জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমারের উপকূল থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে, নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। এটি Bangladesh এর একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং এখানকার নারিকেল গাছের আধিক্যের কারণে স্থানীয়ভাবে “নারিকেল জিঞ্জিরা” নামেও পরিচিত।
দ্বীপের ভৌগোলিক বিবরণ
- আয়তন: Saint Martin দ্বীপের মূল ভূমির আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। তবে জোয়ার-ভাটার সময় পরিবর্তনশীল শিলাস্তূপসহ ধরলে এটি প্রায় ১০-১৫ বর্গকিলোমিটার হয়ে যায়।
- আকৃতি: দ্বীপটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৫.৬৩ কিলোমিটার লম্বা, প্রস্থ সর্বোচ্চ ৭০০ মিটার এবং সর্বনিম্ন ২০০ মিটার।
- উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা ৩.৬ মিটার।
- ভাগ: দ্বীপটি তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত—
- উত্তর অংশ: নারিকেল জিঞ্জিরা বা উত্তর পাড়া।
- দক্ষিণ অংশ: দক্ষিণ পাড়া, যা মূল দ্বীপের সাথে যুক্ত।
- গলাচিপা: দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিস্তৃত একটি সংকীর্ণ লেজের মতো এলাকা।
- ছেঁড়া দ্বীপ: দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত ছোট একটি নির্জন দ্বীপ, যা স্থানীয়ভাবে “ছেঁড়া দ্বীপ” নামে পরিচিত। এটি জোয়ারের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে ভাটার সময় হেঁটে যাওয়া সম্ভব।
কীভাবে যাবেন?
Dhaka to Saint Martin
- বাস:
- ঢাকার গাবতলী ও ফকিরাপুল থেকে বিভিন্ন পরিবহন সরাসরি টেকনাফ ঘাটে যায়।
- প্রধান বাস সার্ভিস: হানিফ, শ্যামলী, ইউনিক, সেন্ট মার্টিন পরিবহন।
- রাত ৬:৩০-৮:৩০ এর মধ্যে বাস ছাড়ে এবং ভোরে টেকনাফে পৌঁছায়।
- জাহাজ:
- টেকনাফ থেকে সকাল ৯টায় সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে জাহাজ ছাড়ে, যা দুপুর ১২টার মধ্যে পৌঁছে।
- ফেরার জন্য দুপুর ৩টা নাগাদ জাহাজ ফিরে আসে।
- অফ-সিজনে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে, তবে ট্রলারের মাধ্যমে যাতায়াত করা সম্ভব।
Cox’s Bazar to Saint Martin
- কক্সবাজার থেকে বাস, মাইক্রোবাস, চান্দের গাড়ি বা ট্যুর প্যাকেজের মাধ্যমে টেকনাফ যাওয়া যায়।
- অনেক হোটেল ট্রান্সপোর্ট ও জাহাজের টিকিটের ব্যবস্থা করে থাকে।
ভ্রমণ খরচ
বাস ভাড়া (ঢাকা-টেকনাফ):
- নন-এসি: ৯০০ টাকা (প্রায়)
- এসি: ১৫৫০ টাকা (প্রায়)
জাহাজ ভাড়া (টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন):
- নিচতলা: ৫৫০ টাকা
- দোতলা (ওপেন ডেক): ৭০০ টাকা
- ভিআইপি কেবিন: ৯০০ টাকা
- গ্রীনলাইন ও অন্যান্য সার্ভিস ওয়ান-ওয়ে টিকিটও সরবরাহ করে (৫০০-৬০০ টাকা)।
Hotel and restaurant expenses:
- সিজনে (অক্টোবর-মার্চ): ১৫০০-২০০০ টাকা (অধিকাংশ রিসোর্টে)
- অফ-সিজনে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর): ৭০০-১২০০ টাকা
- সাধারণত প্রতি রুমে ৪ জন আরামে থাকতে পারেন।
- চেক-আউট সময়: সকাল ১১টা।
সেন্ট মার্টিনে করণীয় ও সতর্কতা
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
স্থানীয় প্রবাল ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ করুন।
সমুদ্রস্নানের সময় সুরক্ষিত জায়গায় থাকুন এবং স্থানীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করুন।
ভাটার সময় বেশি গভীর পানিতে নামবেন না।
লাল পতাকা চিহ্নিত বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে প্রবেশ করবেন না।
সেন্ট মার্টিনের কোরাল মাছ খুব ধারালো, তাই বীচে সাবধানে চলাফেরা করুন।
উপসংহার
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হওয়ায় এটি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। মনোরম সৈকত, নির্জনতা, সুস্বাদু সামুদ্রিক খাবার ও অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এটি একটি আদর্শ স্থান। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল ভ্রমণ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
আপনার পরবর্তী অবকাশ যাপন সাফল্যমণ্ডিত হোক! 🌊🏝️
তথ্য ও ছবিঃ (ইন্টারনেট)



