Historical Place

জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভার: ইতিহাস, স্থাপত্য ও দর্শনার্থীর আকর্ষণ

জাতীয় স্মৃতিসৌধ: গর্ব ও শ্রদ্ধার প্রতীক

ঢাকা থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে সাভার থানার অন্তর্গত নবীনগর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে এবং স্বাধীনতার সংগ্রামকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রখ্যাত স্থপতি মইনুল হোসেনের নকশায় ১৯৮২ সালের আগস্ট মাসে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ৮৪ একর জমির ওপর নির্মিত এই স্থাপনা বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

স্থাপত্যশৈলী ও স্তম্ভের বৈশিষ্ট্য

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ৭টি ত্রিভুজাকৃতির কংক্রিটের স্তম্ভ রয়েছে, যা এক অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী প্রকাশ করে। স্তম্ভগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চটি ১৫০ ফুট উঁচু। প্রথম স্তম্ভটি তুলনামূলক ছোট ও প্রশস্ত, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে বোঝায়। পরবর্তী স্তম্ভগুলোতে ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি চিত্রিত হয়েছে। প্রতিটি স্তম্ভ একেক দিক থেকে একেক রকম দেখতে লাগে, যা এই স্থাপত্যের অন্যতম আকর্ষণ।

কমপ্লেক্সের অন্যান্য অংশ

জাতীয় স্মৃতিসৌধ শুধু একটি স্তম্ভ নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স। এর ভেতরে রয়েছে:

  • প্রশস্ত ইট বাঁধানো রাস্তা।
  • রাস্তার দুপাশে নানা রঙের ফুলের গাছ।
  • কৃত্রিম জলাধার।
  • উন্মুক্ত মঞ্চ।
  • ফুলের বাগান।
  • অভ্যর্থনা কেন্দ্র।
  • মসজিদ, হেলিপ্যাড এবং রেস্তোরাঁ।
  • ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের বাগান।

পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধা

দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এখানে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের লাগানো বৃক্ষরাজি দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

পরিদর্শনের সময়সূচি ও বিশেষ দিন

জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। বিশেষ দিনে যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ, পূজা, ও ১লা বৈশাখে এখানে জনতার ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো।

যাতায়াত পদ্ধতি

ঢাকা থেকে নবীনগর যেতে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার পথ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশেই এর অবস্থান। মতিঝিল ও গুলিস্তান থেকে বিআরটিসি, হানিফ এবং গ্রীনওয়ে বাস সার্ভিস সরাসরি নবীনগর পর্যন্ত যায়। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়িতেও সহজে পৌঁছানো যায়।

তথ্যসূত্র ও ছবি: অনলাইন

এটি শুধু একটি স্মৃতিসৌধ নয়, এটি বাঙালির সংগ্রামের প্রতীক এবং গৌরবের ইতিহাস। আপনি যখনই সময় পাবেন, একবার ঘুরে দেখে আসুন এই অনন্য স্থাপনাটি।

Related Articles

২ Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button